রাইসা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখল পাশে অয়ন নেই

রাইসা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখল পাশে অয়ন নেই।গেল কোথায়?ও তো এই সময় ঘুম থেকে ওঠে না।আরও লেট করে।সোফায় চোখ পড়তেই দেখল অয়ন গুটিশুটি মেরে ওখানে ঘুমাচ্ছে।রাইসার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।যে ছেলেটা তার থেকে বেশিক্ষন দুরেই থাকতে পারত না,আজ সে আলাদা ঘুমাচ্ছে!অবশ্য এতদিনে হয়তোবা অভ্যাস হয়ে গেছে!রাইসা এই নিয়ে এত কেন ভাবছে?সে উঠে ফ্রেশ হতে গেল।

আজ অনেকদিন পর রাইসা তাদের কিচেনে আসল।ইস,যেমন রেখে গিয়েছিল তেমনই আছে।অয়ন বিন্দুমাত্র চেঞ্জ করেনি!আজ কতদিন পর রান্না করবে সে।এতদিন তো নিশিতার হাতের রান্নাই খেয়েছে।নিশিতা?নিলয়?কেমন আছে ওরা?নাহ,রাইসা আর ওদের নিয়ে ভাববে না।নিলয় তাকে অনেক অবহেলা আর অপমান করেছে।নিশিতা তাকে থাপ্পড় মেরেছে।তবুও নিলয় কিছুই বলেনি।ফ্রিজ থেকে সবজি বের করে এনে সবজির খিচুড়ি বানালো।মনে পড়ছে নিশিতাকে এইসব রান্নার জন্য কতই না কথা শুনিয়েছে।আজ এই রান্নাই অমৃত লাগছে!

রুমে এসে দেখে এখনো ঘুমাচ্ছে অয়ন।ইস,এই চেহারাটা এখন কত নিষ্পাপ লাগছে।আচ্ছা রাইসা কি দেখে নিলয়ের প্রেমে পড়েছিল ঘরে এমন একটা ছেলে থাকতে?হ্যাঁ,কারণ অয়ন তখন টাইম দিত না তাকে।এই একাকিত্তই তো যত সর্বনাশের মূল!হঠাতই রাইসার চোখ পড়ল ফ্লোরে।তার ফোনটা ভেঙেচুরে পড়ে আছে।কে ভাঙল?অয়ন?কিন্তু কেন?রাইসা ফোনটা উঠিয়ে জোড়া লাগিয়ে চালু করল।

হায় আল্লাহ!নিলয়ের এত মিসড কল!এখন কেন?সে তো রাইসাকে বেরই করে দিতে চেয়েছিল ঘাড় ধাক্কা দিয়ে।রিসেন্টে দেখল গ্যালারিতে ঢোকা হয়েছে।তার আর নিলয়ের কিছু ছবির ফোল্ডারটা ওপেন করা।ওহ,এইজন্য অয়ন রাগে ফোনটা ভেঙেছে।অবশ্য এটাই স্বাভাবিক!ছবিগুলো কিছু একান্ত মুহুর্তের।না,রাইসা সেটা একান্ত মুহুর্ত বানিয়ে নিয়েছে।কাল যখন সে নিলয়কে জোর করে জড়িয়ে ধরেছিল তখন ছবি তুলে নিয়েছিল।আর একবার যখন সকালবেলা নিলয় তাকে নিশিতা ভেবে টান দিয়েছিল তখনও ছবি তুলে নিতে ভুল করেনি রাইসা।ভেবেছিল পরে কাজে লাগবে।কিন্তু এটা যে অয়নের মনে আরো ঘৃণা বাড়িয়ে দিলো তার জন্য!

অয়ন ঘুম থেকে উঠে দেখে রাইসা ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ও চুপচাপ ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হওয়ার জন্য।রাইসা ভেবেছিল অয়ন বুঝি তার সাথে কথা বলবে।কিন্তু ও তো একবার ফিরেও চাইলো না রাইসার দিকে।অয়ন বের হয়ে কোনো কথা বলে ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ল।রাইসা খাবার সার্ভ করে নিজেও খেতে বসল।
কেউ কোনো কথা বলছে না।রাইসা একবার বলার চেষ্টা করেও পারল না।খাওয়াদাওয়া শেষে অয়ন ফোনটা হাতে নিয়ে কোথায় যেন বেরিয়ে গেল।একবার রাইসাকে বললও না।

নিশিতা ওর দাদীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।নিলয় যে ওকে এত বড় একটা সারপ্রাইজ দেবে ও ভাবতেই পারেনি!কতদিন পর বাবা,দাদা,দাদীকে দেখল।দাদী ওকে নানান গল্প শোনাচ্ছে।এই সময় কি করতে হয়,খেতে হয়,কি করতে হয় না,আরো অনেক কিছু।নিশিতা মন দিয়ে দাদীর কথাগুলো শুনছে।

নিলয় ওকে দূর থেকে বসে বসে দেখছে আর শশুরের সাথে কথা বলছে।মেয়েটা দাদীকে পেয়ে একদম বাচ্চা হয়ে গেছে দাদী,আমার না কাঁচা আম খেতে মন চাচ্ছে! এই সময় এমনই হয় রে বোন।নাতজামাইকে বল তোর জন্য কাঁচা আম কিনে নিয় ‘আচ্ছা বলে দেব’,হেসে বলল দাদী।

নিশিতা কি করবে বুঝতে পারছে না।রাইসা আপুর হাজবেন্ড?সে তো অনেক খারাপ নিলয় বলেছিল।নাহলে রাইসা আপুকে ডিভোর্স দেবে কেন?আর এখন নিজেকে তার হাসবেন্ড বলছে কেন?যাওয়াটা কি ঠিক হবে ওর?তাও আবার সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে।নিলয়কে কি বলবে?অয়ন ম্যাসেজে এড্রেসও সেন্ড করে দিয়েছে।আচ্ছা যেয়ে দেখি উনি কি বলতে চান।কিন্তু এখন ও যাবে কি করে?

রাইসা আজ শেষবারের মত নিলয়ের সাথে দেখা করতে চায়।সে সব ক্লিয়ার করতে চায়।জিজ্ঞাসা করতে চায় যে তার মাঝে এমন কি নেই যেটা নিশিতার মাঝে আছে?কেন তাকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা হলো?আর এখন তো অয়নও তাকে এভয়েড করছে!রাইসার সহ্য হচ্ছে না সেটা।সে নিলয়কে ম্যাসেজ করে নিজের বাড়িতে আসতে বলল।অয়ন তো নেই।এখনই বেস্ট সময়।

নিলয় গল্প করছিলো সবার সাথে।তখনই রাইসার ম্যাসেজ আসল।নিলয়ের মুখের হাসি চলে গেল।আজ তো রাইসাকে খুনই করে ফেলবে ও।নাহ,মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।আজ রাইসার সাথে সব বুঝেপড়ে নেবে।কেন সে এমন করল?নিশিতাকেও বলবে,তবে এখন না।ওর এই খুশির সময়টা নষ্ট করে চায়না নিলয়।যা বলার এসে বলবে।

নিশিতা দেখল এটাই মোক্ষম সুযোগ।নিলয় আসার আগেই অয়ন ভাইয়ার সাথে দেখা করতে হবে।তারপর পরে ওকে সব বলা যাবে।নিশিতা রেডি হয়ে নিলো।তারপর ডাক্তার দেখানোর নাম করে বের হয়ে আসলো।ওর বাবা আসতে চেয়েছিল কিন্তু নিশিতা সামলিয়ে নিয়েছে।

একটা রেস্টুরেন্টে অয়ন আর নিশিতা বসে আছে।সবটা শোনার পর নিশিতা থ হয়ে গেছে।নিলয় এত বড় ধোকা ওকে দিতে পারল?এতদিন শুধুই নাটক করেছে!নাহ,নিলয় এমন করতেই পারে না।

আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে ভাইয়া।নিলয় শুধু আমাকে ভালবাসে।উল্টো রাইসা আপুই তো নিলয়ের কাছে আসার জন্য জোরাজুরি করেছিল আমি জানতাম ভাবি আপনি এটাই বলবেন।নিলয়ের প্রতি আপনার ভালবাসা দেখে আমি মুগ্ধ।কিন্তু ভাবি তালি এক হাতে বাজে না।আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য আমি কিছু ছবি এনেছি,দেখেন।

অয়ন রাইসার ফোন থেকে আগেই ছবিগুলো নিয়ে রেখেছিল।নিশিতা ঘামতে শুরু করেছে ছবিগুলো দেখার পর।মাথা ঘুরে পড়ে যেতে গেলে অয়ন ধরে ফেলল।গাড়িতে বসিয়ে পানি খেতে দিলো ‘ভাবি,আপনি আমার বাসায় চলেন।ওখানে সব বলা যাবে।আপনাকে মেডিকেল ট্রিটমেন্টও দিতে পারব নিশিতা কিছু বলার অবস্থায় নেই।তাই অয়ন আর দেরি না করে ড্রাইভ করা ধরল।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *